জাতীয়

বিমানের টিকিট জালিয়াতির ১০ সিন্ডিকেট শনাক্ত, স্থগিত ৪ ট্রাভেল এজেন্টের কার্যক্রম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম

বিমানের টিকিট জালিয়াতির ১০ সিন্ডিকেট শনাক্ত, স্থগিত ৪ ট্রাভেল এজেন্টের কার্যক্রম
ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে টিকিট জালিয়াতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ১০টি সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব তদন্তে যাত্রীদের নামে ভুয়া তথ্য ব্যবহার, একাধিকবার টিকিট হাতবদল এবং আর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তদন্তে টিকিট কারসাজির মূল হোতা হিসেবে বন ভয়েজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ওভারসিজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সাব-এজেন্ট, ঢাকার বাইরে গাইবান্ধাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইডেন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস ও ক্রিয়েটিভ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে বিমানের সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রাজস্ব শাখার ডেপুটি ম্যানেজার সাজ্জাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠিতে জানানো হয়, রেভিনিউ ইন্টিগ্রিটি ও আইবিই রেভিনিউ বিভাগের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সময় কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্টের টিকিট ইস্যু ও অর্থ পরিশোধের ধরণে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে।

তদন্তে উঠে আসে, কিছু ট্রাভেল এজেন্ট বিমানের আইটি সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অননুমোদিতভাবে টিকিট ইস্যু করছিল। একাধিক এজেন্সি ও ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়ম চালানো হতো, যাতে প্রকৃত লেনদেন আড়ালে থাকে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ ডিসেম্বর বিমানের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের আইএটিএ আইডি ও ইনভেন্টরি ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব চক্রের সঙ্গে বিমানের কোনো ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে চারটি ট্রাভেল এজেন্সি ও ছয়জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি সংগঠিত জালিয়াতি চক্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের ট্রাভেল এজেন্সি, স্থানীয় পর্যায়ে যাত্রী সংগ্রহকারী ব্যক্তি এবং কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তাকারীরা জড়িত ছিলেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকিট তিন থেকে চার দফা হাতবদল হওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয়েছে।

বিমানের রেভিনিউ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং সংস্থার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও আইএটিএ নীতিমালার পরিপন্থী। তাই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সময়মতো জালিয়াতি ধরা না পড়লে বিমান বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

এদিকে বিমান সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে বিমানের অভ্যন্তরে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।