জাতীয়
সংসদ নির্বাচন: রাজধানীসহ ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতেই বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তবে ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা বিজিবি মোতায়েনের আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে বিজিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে সারাদেশে ইতোমধ্যে মোট ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই বাহিনী ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী মিলিয়ে মোট সাত দিনের জন্য সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের চার দিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হবে এবং তা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এবং কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবেন। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও কোস্টগার্ডও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে মোট প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৮ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য, ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।