জাতীয়
বিতর্কিত ধারা সংযোজন, রেলকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার পায়তারা!
রেলওয়ে এক্ট ১৮৯০ সংশোধনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন সংশোধনের আড়ালে দেশের রেল খাতকে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে ভারতের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই সময় রেলওয়ে এক্টের ৪৩ ধারার (১) উপধারা সংশোধনের মাধ্যমে ‘ট্র্যাক অ্যাকসেস এগ্রিমেন্ট’ নামে একটি নতুন প্রস্তাব যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি কিংবা দেশের বাইরে অবস্থিত কোনো রেলওয়ে কোম্পানি বা প্রশাসনের সঙ্গে ট্র্যাক ব্যবহারের চুক্তি করতে পারবে।
আইনের খসড়ায় “বাংলাদেশের বাহিরের কোনো প্রাইভেট কোম্পানি বা বাংলাদেশের বাহিরের কোনো রেলওয়ে কোম্পানি বা প্রশাসন”—এই শব্দগুলোর সংযোজন নিয়েই মূল আপত্তি। রেল সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তৎকালীন সরকারের সময় রেলের ভেতরে সক্রিয় বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর চাপেই এই ভাষা যুক্ত করা হয়েছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে রেলওয়ে ভবনে রেলওয়ে এক্ট ১৮৯০ সংশোধনের খসড়া পর্যালোচনাবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রেল অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেশপ্রেমিক ও পেশাদার হওয়ায় তারা এই বিতর্কিত উদ্যোগ ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
এই কমিটির একজন সদস্য, যিনি ২০১৯ সালে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং বর্তমানে কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত, মিয়া জাহান গণমাধ্যমকে জানান- রেলওয়ে এক্ট সংশোধনের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০১২-১৩ অর্থবছরে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে তিনি এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। তবে তার দায়িত্বকালীন সময়ে আলোচিত এই বিতর্কিত ধারাটি খসড়া প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না; পরবর্তীতে এটি সংযোজন করা হয়েছে।