জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও পাবেন একই পে-স্কেল, শিগগিরই কার্যকর হবে: শিক্ষামন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও পাবেন একই পে-স্কেল, শিগগিরই কার্যকর হবে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো একই হারে নতুন পে-স্কেল পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পে-স্কেল নিয়ে যে বৈষম্য বা সীমাবদ্ধতা ছিল, তা দূর করে সবাইকে একই পে-স্কেলের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছর শিক্ষা খাতে সর্বাধিক বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সবাই নতুন পে-স্কেল পেয়েছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এত দিন এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে তাঁদেরও অন্যদের সঙ্গে একই পে-স্কেলের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন ও দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এহছানুল হক মিলন বলেন, তাঁরা খুব শিগগিরই নতুন পে-স্কেল পাবেন। তবে আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শুধু আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই চলবে না, শিক্ষার মান, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থা একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাংলাদেশও সেই চ্যালেঞ্জের বাইরে নয়। আমরা এখন গ্লোবাল ভিলেজে বসবাস করছি। প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে।

এ সময় বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের ৩৪৭ জন গবেষকের স্থান পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রকাশিত ওই তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাঁদের লেখালেখি, গবেষণা ও গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং যাঁরা বিভিন্ন ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন, তাঁদের এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি চান শিক্ষকরা কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর গবেষণার কাজে যুক্ত হবেন এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের উদ্যোগ নেবেন। তবে কর্মজীবনের শুরুতেই এ বিষয়ে চাপ না দিয়ে পর্যায়ক্রমে গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অধ্যাপক হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে ধারাবাহিকভাবে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এ সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন করে আইনবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে এর অপব্যবহার না হয়।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।