রাজধানী

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডিএসসিসির বিশেষ অভিযান, ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ ওয়ার্ডে একযোগে মশা নিধন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডিএসসিসির বিশেষ অভিযান, ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ ওয়ার্ডে একযোগে মশা নিধন
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানের আওতায় মশার লার্ভা ধ্বংস, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক জানান, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। জরিপে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ ব্যবহার করে জরিপের তথ্য সংগ্রহ করেন।

জরিপের সংগৃহীত তথ্য এবং এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারণের বিভিন্ন সূচক-ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI)-বিশ্লেষণ করে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২৯টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ১৮টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জরিপে পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব বাড়িতে তাৎক্ষণিকভাবে লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, বহুতল ও সেমিপাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং খালি প্লটে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষ করে বাসাবাড়ির বিভিন্ন পানির পাত্র, ভবনের বেজমেন্ট এবং ফুলের টবের মতো জায়গায় জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে শুরু হওয়া বিশেষ চিরুনি অভিযানে নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন, খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং মসজিদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে মতবিনিময় সভা ও যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। এসব কার্যক্রমের পরও কোনো স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে থাকতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও জানান, জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্লাস্টিকের বালতিতে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত পানির পাত্র ও আশপাশের জমে থাকা পানির বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উৎসে বিশেষ নজর দিলে প্রাথমিক পর্যায়েই ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এডিস মশার বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রশাসক আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীবাসীর জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।