রাজনীতি
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হবে না, জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের মানুষের রক্ত ঝরাতে যারা দ্বিধা করেনি, তাদের প্রত্যাবর্তন জনগণ কখনো মেনে নেবে না। শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও ফাইয়াজের মতো তরুণেরা বুক পেতে গুলি গ্রহণ করে যে বিপ্লবের বাস্তবতা তৈরি করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। এত মানুষের রক্ত ঝরার পরও শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার কথা বলছেন। তিনি কি প্যারাসুট দিয়ে দেশে নেমে আসবেন, আর দেশের মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবে? এমন পরিস্থিতি কখনো তৈরি হবে না।
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে ফেরার কথা বলছেন। কিন্তু তাঁর এই প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়; বরং তিনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন। যারা দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ জনগণ দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বিদেশি প্রভাবের বিরোধিতা করে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতির সূচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে চুক্তি করবে, তা এ দেশের সরকার ও জনগণই নির্ধারণ করবে। অন্য কোনো দেশের ইশারায় বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হওয়া উচিত।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নানা আক্রমণ, প্রতিকূলতা ও হুমকির মধ্যেও তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি দলকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন।
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই দিনটি শুধু ঐতিহাসিক একটি ঘটনা নয়, বরং সংকটের সময় সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়ার মতো একটি কম্পাস। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব রয়েছে এবং এই দিন থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যতের পথচলায় দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।