রাজনীতি

কাজ ও সাংগঠনিক অবদানের মাধ্যমেই নেতৃত্বে আসতে হবে: আইনমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

কাজ ও সাংগঠনিক অবদানের মাধ্যমেই নেতৃত্বে আসতে হবে: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতিতে নেতৃত্বের অবস্থান ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা বিশেষ কোনো পরিচয়ের মাধ্যমে নয়, বরং কাজ, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়ে অর্জন করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা এবং দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতাই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দলের জন্য কে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারবেন, নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটিই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত সাবেক হুইপ ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম মশিউর রহমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মরণসভায় মশিউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব এখনো অনুভূত হচ্ছে। তিনি ঝিনাইদহে এমন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, যার প্রভাব জেলার সীমানা ছাড়িয়ে খুলনা বিভাগেও বিস্তৃত হয়েছিল। জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ঝিনাইদহের রাজনীতিতে তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মশিউর রহমানের অনুপস্থিতিতে গত নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি বেঁচে থাকলে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মৌলবাদ মোকাবিলা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ; রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের মূল চালিকাশক্তি।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন বিষয়ে মশিউর রহমানের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য ও দ্বিমত ছিল। আবার অনেক বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়েছেন। ভালো পরামর্শ গ্রহণ করার পাশাপাশি কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে তা নিয়েও আলোচনা করেছেন। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহের তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার দায় কোনো একক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বের ভিত্তিতেই বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা পরিচালিত হচ্ছে। মশিউর রহমান ছিলেন দলের অন্যতম ভ্যানগার্ড। তাঁকে প্রকৃত অর্থে শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলি, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা এবং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নেতৃত্ব কখনো স্থির থাকে না কিংবা কোনো ব্যক্তির কাছে চিরস্থায়ীভাবে বন্দি থাকে না। যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেরই নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির বর্তমান মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য অনুসরণীয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও রাজনৈতিক আদর্শের সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দলের আদর্শের প্রতি আনুগত্য, সহযোদ্ধাদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। যারা আগামী দিনে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের মশিউর রহমানের মতো নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি দলের ঐক্য, আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

এ সময় ঝিনাইদহের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ঝিনাইদহ সদর হয়ে মাগুরা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝিনাইদহের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও উন্নত হবে। সরকার প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিবর্তে পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর ওয়াই-আকৃতির সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সহসম্পাদক মনির খানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।