জাতীয়
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেছেন, এসব প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) অধিক্ষেত্রাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থাপনা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদে মাতারবাড়ীতে আরও বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
পরিদর্শনকালে এবিএম আব্দুস সাত্তার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, ভূমিভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ স্থাপনা, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মিডার কার্যালয় নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য চিহ্নিত এলাকাও পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বলেন, বিগত সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এসব উন্নয়ন প্রকল্প প্রত্যাশিত গতি পায়নি। তবে বর্তমান সরকার প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। মাতারবাড়ীকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) সদস্য মোহাম্মদ সারোয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মিডা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীর চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩২ হাজার একর এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলকে চারটি কৌশলগত হাবে বিভক্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর ও লজিস্টিকস হাব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হাব, শিল্প উৎপাদন হাব এবং মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন হাব। এসব হাব বাস্তবায়িত হলে মহেশখালী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
মিডা আরও জানায়, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্নিং বেসিন ও টার্মিনাল নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। বড় আকারের জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে, যা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।
কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এসব বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবদান যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় দেড় লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ এবং ২৫ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পগুলোতে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিনিয়োগ আসবে বলে জানিয়েছে মিডা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু মহেশখালী নয়, পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।