সারাবিশ্ব

ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরে নজরদারি জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সদস্যের টাস্কফোর্স


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরে নজরদারি জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সদস্যের টাস্কফোর্স
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরকেন্দ্রিক নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্য এবং অবৈধ সামগ্রী প্রবেশের পথ শনাক্ত ও এসবের সরবরাহ বন্ধের কৌশল নির্ধারণে কাজ করবে এই টাস্কফোর্স।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপ করা মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি দেশটির স্থলপথেও নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপার টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন এই উদ্যোগের ফলে ইরানের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, অস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং সামরিক সক্ষমতা পুনরায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরও সীমিত করা সম্ভব হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডাভিত্তিক এই টাস্কফোর্সে সামরিক ও বেসামরিক-উভয় ধরনের সদস্য থাকবেন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। বিশেষ করে ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর ব্যবহার করে অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত বিভিন্ন পণ্য এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ যেন দেশটিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উপায় খুঁজে বের করবেন।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ইরানি উদ্যোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধের ফলে দেশটি থেকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন টাস্কফোর্সের কার্যক্রম শুরু হলে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে স্থলসীমান্ত এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ইরানের কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহের পথগুলো বন্ধ করাই হবে এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।