জাতীয়
সামিটের চেয়ারম্যান আজিজসহ পরিবারের ১৬ সদস্যকে দুদকে তলব
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী, কন্যাসহ পরিবারের মোট ১৬ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো তলব নোটিশে সংশ্লিষ্টদের আগামী ২৯ জানুয়ারি এবং ১, ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
তলবপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, কন্যা আয়েশা আজিজ খান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য ফরিদ খান, সানাদিনা খান, সালমান খান, জাফর উম্মিদ খান, লতিফ খান, ফয়সাল করিম খান, ফারহান করিম, ফাদিয়াহ খান, ফারহানা খান ও আজহারুল হকসহ মোট ১৬ জন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ পাচারের অভিযোগে মোহাম্মদ আজিজ খানের বিরুদ্ধে ২২৬ কোটি টাকা, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খানের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি টাকা, কন্যা আয়েশা আজিজের বিরুদ্ধে ২১৯ কোটি টাকা এবং ফরিদ খানের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সানাদিনা খান ও সালমান খানের বিরুদ্ধে প্রত্যেকের ৩৯ কোটি টাকা, জাফর উম্মিদ খানের বিরুদ্ধে ৫২ কোটি টাকা, লতিফ খানের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি টাকা, ফয়সাল করিম খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি টাকা, ফারহান করিমের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা, ফাদিয়াহ খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি টাকা, ফারহানা খানের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা এবং আজহারুল হকের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলোর অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি সংশ্লিষ্টদের আয়, সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করেছিল দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোহাম্মদ আজিজ খানের নামে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ১০৯ টাকা, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খানের নামে প্রায় ৯২ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা এবং কন্যা আয়েশা আজিজ খানের নামে প্রায় ২৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬৪ টাকার অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া আয়কর নথিতে প্রদর্শিত সম্পদের মূল্য প্রকৃত সম্পদের তুলনায় কম দেখানো হয়েছে এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারার আওতায় পৃথক পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে কমিশন।
দুদক জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।