জাতীয়

পোস্টাল ব্যালট বাতিলে নতুন নির্দেশনা জারি করল ইসি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

পোস্টাল ব্যালট বাতিলে নতুন নির্দেশনা জারি করল ইসি
ছবি: সংগৃহীত

ঘোষণাপত্র বা ভোটারের স্বাক্ষর ছাড়া পাঠানো কোনো পোস্টাল ব্যালট আর গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এ ছাড়া আরও সাতটি নির্দিষ্ট কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিল করা হবে-এমন নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈধ পোস্টাল ব্যালট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ -এই ভিত্তিতে পৃথকভাবে গণনা করতে হবে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ইস্যুকৃত পোস্টাল ব্যালট কোনো প্রার্থীর অনুকূলে গণনা করা যাবে না। সেগুলো হলো-

ঘোষণাপত্র না থাকলে, ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে, একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে, কোনো প্রতীকেই টিক বা ক্রস চিহ্ন না থাকলে, এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে যাতে স্পষ্টভাবে বোঝা না যায় ভোটটি কোন প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে, প্রবাসী (ওসিভি) ভোটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে এবং ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন প্রদান করা হলে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় উপযুক্ত কারণে অবৈধ বা বাতিল ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপারগুলো আলাদা নির্ধারিত খামে সংরক্ষণ করতে হবে। ওই খামের ওপর বাতিল ব্যালটের সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে এবং মোট বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফলাফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরুর আগে যদি তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায় না, তবে সেগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো আদালতের আদেশে যদি কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী আসনের প্রার্থীতালিকায় পরিবর্তন আসে, সে ক্ষেত্রে ওই আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না। এখানে ‘যথাসময়’ বলতে ভোটগ্রহণের দিনসহ তার আগের চার দিন-মোট পাঁচ দিনকে বোঝানো হয়েছে।

এ ছাড়া কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হওয়া কিংবা ভোটার পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর খামের কিউআর কোড স্ক্যান না করার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালটগুলো আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সেগুলোর হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে বলেও নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ভেতরে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রবাসী—সব মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।