জাতীয়

জুলাইযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা দেবে সরকার: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

জুলাইযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা দেবে সরকার: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

জুলাইযোদ্ধাদের সন্তানরা যেন দারিদ্র্য ও অবহেলার কারণে স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পরিবারগুলোর কল্যাণ ও পুনর্বাসন সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন নিয়ে তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তাদের ছেলে-মেয়েরা যেন স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য শিক্ষা ভাতা দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।” পাশাপাশি জুলাই মাসে যারা আহত বা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর জন্যও প্রয়োজনীয় সব ধরনের কল্যাণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত আহতদের তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং তাদের নাম গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভাতা প্রদানও শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, জুলাইযোদ্ধাদের ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। আর জীবিত আহতদের ক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণিতে মাসিক ২০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণিতে ১৫ হাজার টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কল্যাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, দেখা গেছে—জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের অনেক সন্তান পর্যাপ্ত দেখভালের অভাবে স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। তাদের আবার শিক্ষার মূলধারায় ফেরাতে শিক্ষা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিন্তু আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের জন্য ছোট আকারের ব্যবসা পুনরায় চালুর সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বৈঠক ও পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, “যাদের হাত বা পা নেই, কিন্তু কিছুটা কর্মক্ষম, তাদের জন্য এমন প্রকল্প নিতে চাই—যাতে তারা সম্মানজনকভাবে সংসার চালাতে পারেন।” এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গেও কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে আড়াই লাখে দাঁড়ায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই করে ইতোমধ্যে ৩০০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্যায়ভাবে সরকারি সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে সেই সুবিধা পুনরুদ্ধারের বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই-জুলাইযোদ্ধা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারগুলোকে সম্মানজনক ও নিরাপদ জীবনের সুযোগ করে দেওয়া।”