জাতীয়
এসি ব্যবস্থাপনা শেখার প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্তের ৮ কর্মকর্তা!
সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের সরকারি সফরের আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম প্রশিক্ষণ’। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি, সফরের প্রয়োজনীয়তা এবং খরচ বহনের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। যদিও এর আগে তিন দফা তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সফরের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে মার্চের মাঝামাঝি।
যে প্রকল্পের অর্থে এই সফর হচ্ছে, সেই প্রকল্পের কাজ এখনো আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। পরে দু’দফায় ব্যয় বাড়িয়ে তা ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বাস্তবায়নের সময়সীমাও কয়েকবার বাড়ানো হয়েছে। তবুও প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয় বলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন উঠেছে এই কারণে যে, যেসব কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন তাদের কেউই সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা কয়েক মাসের মধ্যেই অবসরে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে, এই সফরের যাবতীয় খরচ বহন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে চিলার ও এইচভিএসি প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সফরের ফলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের নির্ভরতা বা দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সরঞ্জামের মান যাচাই বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য অনুমোদন পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
এ প্রকল্পের আওতায় যেসব হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে সেগুলো হলো- ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হলে এইচভিএসি ব্যবস্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানো হবে। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।