জাতীয়

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার।

আগামী ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাতির জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী জীবন উৎসর্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে প্রচলিত শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কর্মমুখী ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মসূচি প্রণয়ন এবং অতিক্ষুদ্র প্রযুক্তিসহ আধুনিক বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেধা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক অবদান রাখতে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।