জাতীয়

হোলি আর্টিজানের সেই রাত, হামলার ১০ বছরেও মুছেনি ক্ষতচিহ্ন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

হোলি আর্টিজানের সেই রাত, হামলার ১০ বছরেও মুছেনি ক্ষতচিহ্ন
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ। দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এই সন্ত্রাসী হামলায় বিদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। এছাড়া দুই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও অনেকে।

এই হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে দুই ধাপ অতিক্রম করেছে। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষণার পর বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করেছেন।

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে ‘নব্য জেএমবি’র সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন রাকিবুল হাসান (রিগ্যান), জাহাঙ্গীর হোসেন (রাজীব গান্ধী), আসলাম হোসেন (র‌্যাশ), হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান (সোহেল মাহফুজ), মামুনুর রশীদ (রিপন) এবং শরিফুল ইসলাম (খালেদ)। তাদের মধ্যে আসলাম হোসেন ২০২৫ সালের ৬ জুন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ রানা জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ছয় আসামি পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করেছেন। মামলাটি কার্যতালিকায় এলে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির আবেদন করবে।

গত বছরের ১৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ফরেনসিক, ব্যালিস্টিক, ডিএনএ ও ইমিগ্রেশন রিপোর্ট অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) উগ্র অংশ ‘নব্য জেএমবি’ পরিচয়ে এই হামলা চালায়।

হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গি সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়। তারা হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম (উজ্জ্বল) এবং খায়রুল ইসলাম (পায়েল)।

২০১৬ সালের ১ জুলাই, শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন জঙ্গি প্রবেশ করে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব, সোয়াট, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন।

জিম্মিদের উদ্ধারে প্রথম অভিযানে গেলে হামলাকারীদের হামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম এবং বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান গুরুতর আহত হন। পরে তারা মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন।

পরদিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। সাঁজোয়া যান দিয়ে রেস্তোরাঁর দেয়াল ভেঙে কমান্ডোরা ভেতরে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযান শেষ করে জীবিত ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযান শেষে রেস্তোরাঁর ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ জন জিম্মির মরদেহ। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশি। পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ ওই হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ জন।

দশ বছর পেরিয়ে গেলেও হলি আর্টিজান হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে জঙ্গিবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।