জাতীয়

জুলাই শহীদদের সম্মান ও পুনর্বাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

জুলাই শহীদদের সম্মান ও পুনর্বাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহতদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই আয়োজনের মাঝে বারবার মনে হয়েছে, যদি আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—তার ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না। আমার বিশ্বাস, তিনি বলতেন—দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।”

জুলাই শহীদদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মাটিতেই বিচার হবে। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কোনো অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, কিছুটা বিলম্ব হলেও প্রকৃত অপরাধীর সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত সাফল্য।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভক্ত জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনজন হারানোর বেদনা অপূরণীয় হলেও দেশ এগিয়ে গেলে একদিন গর্ব করে বলা যাবে—এই ত্যাগ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুভূতি তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর বেদনায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মারক তুলে দেন। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।