জাতীয়

শিক্ষার্থীদের ব্রয়লার মুরগি বলার প্রতিবাদে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

শিক্ষার্থীদের ব্রয়লার মুরগি বলার প্রতিবাদে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের ‘ব্রয়লার মুরগি’ বা ‘ফার্মের মুরগি’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’। এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ‘ফেসবুক’-এ ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি পেজ চালু করা হয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে পেজটিতে ‘আমরাই ব্রয়লার প্রজন্ম: অপমানে নয়, ঐক্যে শক্তি’ এবং ‘তারা আমাদের ব্রয়লার মুরগি বলেছিল, আমরা আন্দোলনে পরিণত হয়েছি’—এ ধরনের স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পেজটির অনুসারী সংখ্যা দুই হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে যায়।

জলাবদ্ধতা ও টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বা ‘ব্রয়লার মুরগি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়।

পেজটিতে বিকেল থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনসংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে।

অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, উদ্যোগটি ভারতের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সেখানে একই ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন এক ঘোষণায় বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি জানান, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হওয়ায় যারা অংশ নিতে পারেনি বা সমস্যার মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের স্বার্থ বিবেচনায় সেই পরীক্ষা পুনরায় নিতে হবে। পাশাপাশি পরদিনের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীবান্ধব করার আহ্বান জানানো হয়।