জাতীয়
গুমের যে বর্ণনা আমরা শুনেছি তা দিয়ে হরর মুভি বানানো যাবে: তাজুল ইসলাম
গুমের ঘটনায় তদন্তকালে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বর্ণনা এতটাই ভয়াবহ যে তা দিয়ে একটি হরর সিনেমা তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হতো এবং অনেককে হত্যার পর মরদেহ গোপনে নদী-খাল বা জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম।
তাজুল ইসলাম বলেন, গুম ও হত্যার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে তারা ভুক্তভোগী, সাক্ষী এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেককে বাসা, কর্মস্থল কিংবা রাজপথ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং পরে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যেত না।
তিনি দাবি করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে গোপন বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হতো। তদন্তে পাওয়া বর্ণনা এতটাই ভয়াবহ যে, তা দিয়ে একটি হরর সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, নির্যাতনের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে বৈদ্যুতিক শক, ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত, শারীরিক অঙ্গহানি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, অনেককে ভয় দেখাতে নির্যাতনের চিত্র অন্যদের সামনে প্রদর্শন করা হতো।
তিনি বলেন, যারা অভিযোগ স্বীকার করতেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো। আর যাদের বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ পাওয়া যেত না বা ভুলবশত আটক করা হয়েছিল বলে মনে করা হতো, তাদের চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে আসা হতো। তাঁর দাবি, অন্যদের হত্যা করে মরদেহ নদী বা জলাশয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।