জাতীয়

পদত্যাগের পরও আজীবন যেসব সুবিধা ভোগ করবেন মো. সাহাবুদ্দিন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

পদত্যাগের পরও আজীবন যেসব সুবিধা ভোগ করবেন মো. সাহাবুদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেও আইন অনুযায়ী আজীবন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে থাকবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও তার জন্য নির্ধারিত সুবিধাগুলো বহাল থাকবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি পদত্যাগ করেন। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন করতে অক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অন্তত ছয় মাস থাকলেই একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। সেই হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনও এ সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন সহায়ক কর্মী পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও বরাদ্দ থাকবে। সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও থাকবে তার জন্য।

তার বাসভবনে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে এর বিল সরকার বহন করবে। পাশাপাশি একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের চিকিৎসাসেবা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা খরচে থাকার সুবিধাও পাবেন তিনি।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর নজিরও গড়েন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। তখন থেকেই তার পদত্যাগের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে। এরপরও রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে যান।

তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন পরিবর্তনের সূচনা হলো। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেন তিনি।