জাতীয়

আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন নিষিদ্ধ, জারি গণবিজ্ঞপ্তি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন নিষিদ্ধ, জারি গণবিজ্ঞপ্তি
ছবি: সংগৃহীত

মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ বাস্তবায়নে নাগরিকদের সচেতন করতে সম্প্রতি একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তি গত বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত হয়। এতে এলাকাভিত্তিক শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরব এলাকায় সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে কোনো ধরনের উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।

বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত মাত্রার বাইরে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্রপাতি বা কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ। সরকারি অনুমতি ছাড়া জনসমাগমস্থলে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি থাকলেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবলের মধ্যে রাখতে হবে এবং পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না। রাত ১১টার পর এসব যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

এছাড়া নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্ন তৈরি, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নিরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় পটকা, আতশবাজি বা অন্য কোনো উপায়ে শব্দদূষণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না।

প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনভোজন আয়োজন এবং উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে শব্দদূষণ শনাক্ত করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

একই সঙ্গে জনসাধারণকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে নতুন বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।