জাতীয়

জ্বালানির দাম বাড়লেও আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে না, নৌযান নিয়ে সিদ্ধান্ত পরশু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

জ্বালানির দাম বাড়লেও আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে না, নৌযান নিয়ে সিদ্ধান্ত পরশু
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে নৌযানের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরশুদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবারও এখন পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে রেলওয়ের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়েছে, তা পর্যালোচনা করতে পরশু একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নৌযানের ভাড়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লঞ্চসহ নৌযান পরিচালনার খরচ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে কতটা বেড়েছে, তা সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যালোচনা করা হবে। তাদের ব্যয় ও যাত্রীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়েও সতর্ক অবস্থানের কথা জানান তিনি। শেখ রবিউল আলম বলেন, পরিবহন খাতের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মী জড়িত। ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের স্বার্থ যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

রেলওয়ের লোকসান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়েতে বর্তমানে লোকসান রয়েছে। তবে আগেরবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরও ট্রেনের ভাড়া না বাড়িয়ে রেলওয়ের লোকসান প্রায় ২২৫ কোটি টাকা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে রেলের ব্যয় ও লোকসানের ওপর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়েছে, তা পরশুর বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার শতভাগ চেষ্টা থাকবে, যাতে ট্রেনের ভাড়া বাড়াতে না হয়।’ তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে রেলওয়ের ব্যয় কতটা বেড়েছে, সেটিও বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

পণ্য পরিবহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনের ভাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার জন্য পিকআপ ভাড়া করার ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো ভাড়া কার্যকর থাকে না। মালিক ও গ্রাহকের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তবে ট্রাকের ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতে নির্ধারিত ভাড়া ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন মালিকদের ব্যয়, শ্রমিকদের স্বার্থ এবং যাত্রীদের সক্ষমতা-সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।