জাতীয়

মানবপাচার রোধে আইন ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

মানবপাচার রোধে আইন ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং অভিবাসী পাচারের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে বাংলাদেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের অধীনে আয়োজিত ‘সোর্স থেকে শেলফ: বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে মানবপাচার মোকাবিলা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের থিমেটিক সভায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় আইনমন্ত্রী মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ এবং দমনে বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপরাধের ধরন ও কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবপাচার মোকাবিলায় কার্যকর আইন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমনে বাংলাদেশ ‘মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় রেফারেল মেকানিজম আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবপাচার-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নের উদ্যোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আইনমন্ত্রী কার্যকর আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, মানবপাচার একটি আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ অপরাধ হওয়ায় শুধু একটি সংস্থা বা দেশের একক উদ্যোগে এর কার্যকর মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ জন্য বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং মানুষের মানবিক মর্যাদা সুরক্ষায় বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক একীভূতকরণ ও বৈশ্বিক শ্রম চলাচল এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে শ্রমিকদের অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় থাকে এবং তারা যেন কোনো ধরনের শোষণ, জবরদস্তি বা প্রতারণার শিকার না হন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ আলোচনায় মানবপাচার প্রতিরোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিকদের সুরক্ষা, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব উঠে আসে।

সভায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারমন্ত্রী, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি), ইন্টারপোলসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন।

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় বাংলাদেশ ২০২৬ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া জোরদার, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।