জাতীয়

আগামী দুই বছরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণ করবে সরকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

আগামী দুই বছরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণ করবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গৃহস্থালির জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খামারিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার কক্সবাজারের লিংক রোডসংলগ্ন এলাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে পরিচালিত বায়োগ্যাস কার্যক্রমকে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে এ প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বায়োগ্যাসের ব্যবহার, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং এর অর্থনৈতিক সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে একটি তথ্যবহুল বুকলেট তৈরি করে মাঠপর্যায়ে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে খামারি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহী দুজন খামারিকে দেড় লাখ টাকা করে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়। এ ধরনের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে খামারিদের নিজস্ব উদ্যোগে বায়োগ্যাস উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে বিকল্প জ্বালানিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বায়োগ্যাস উৎপাদন সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গৃহস্থালির জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে এবং খামারিরা উৎপাদিত বায়োগ্যাসকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। এ জন্য যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মতো সময়োপযোগী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিটি সেবা দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি খামারিদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির প্রসার, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।