রাজনীতি
প্রথম গ্রেপ্তার হলো শেখ পরিবারের এক সদস্য অলিদুর রহমান হীরা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অসংখ্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপি, এবং অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রতিদানযোগ্য থেকে গিয়েছিল দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়রা।
এমনকি সরকার পতনের আগেই শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের দেশ ছাড়ার বিশেষ নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ফলে শেখ পরিবারের কেউই দেশে অবস্থান করছিলেন না—এমন একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা গড়ে ওঠে।
তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেমে থাকেনি। প্রভাবশালী এই পরিবারের কাউকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে নিরবিচারে চিরুনি অভিযান চালিয়ে গেছে তারা। অবশেষে দীর্ঘ এক বছর পর সেই চেষ্টার সফলতা এসেছে।
গত বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর ভাটারা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ অলিদুর রহমান হীরাকে। র্যাব-১ এর একটি দল তাকে আটক করে পরে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া শেখ হীরা শেখ হাসিনার চাচাতো মামা শেখ আকরাম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
র্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ জাকিউল করিম জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র ও জনতার ওপর হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত ছিলেন শেখ হীরা। তার নির্দেশেই রাজধানীর কোতোয়ালী, রামপুরা ও উত্তরা পশ্চিম থানাসহ গোপালগঞ্জ, খুলনা জেলার দিঘলিয়া ও ফুলতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রসহ ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালায়। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঢাকার একাধিক থানা ছাড়াও খুলনা ও গোপালগঞ্জে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাব জানায়, মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
শেখ পরিবারের কোনো সদস্য হিসেবে তিনিই প্রথম যিনি সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হলেন।