রাজনীতি

প্রশাসনে খুঁজে খুঁজে ‘জামায়াত-শিবিরের’ লোক বসানো হচ্ছে: রিজভী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪১ পিএম

প্রশাসনে খুঁজে খুঁজে ‘জামায়াত-শিবিরের’ লোক বসানো হচ্ছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

খুঁজে খুঁজে জামায়াত-শিবির মতাদর্শের কর্মকর্তাদের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল তথ্য উপদেষ্টা মাহবুব আলমের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এই অভিযোগ তোলেন।

রিজভী বলেন, “প্রশাসনে এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা ছাত্রজীবনে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের অতীত জানার পরও ক্ষমতাসীন দল এখন তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে। অথচ যারা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের পেছনে ঠেলে রাখা হয়েছে, এমনকি ওএসডি করে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আজ মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব থেকে শুরু করে অনেক শীর্ষপদে যাদের বসিয়েছেন, তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় কারও অজানা নয়। অথচ বিএনপির ছাত্রসংগঠন সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বহীন পদে রাখা হয়েছে।”

বিএনপি নেতার দাবি, সরকারি প্রশাসনে দলীয়করণের যে চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তিনি বলেন, “যখন একটি রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ক্যাডারদের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বসানো হয়, তখন নির্বাচন বা জনগণের সেবা কোনো কিছুই নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, “আমরা প্রশাসনে এমন কর্মকর্তাকে দেখতে চাই, যিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। কে ছাত্রজীবনে কী করেছে, সেটা মুখ্য নয়— বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় তার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বই মুখ্য হওয়া উচিত।”

রিজভী আওয়ামী লীগের অতীত নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “১৯৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত সময় বিসিএসকে বলা হতো ‘বাংলাদেশ তোফায়েল সার্ভিস’। তখন থেকেই দলীয়করণের সূত্রপাত। কিন্তু বিএনপির শাসনামলে (১৯৯১–৯৬, ২০০১–০৬) প্রশাসনে কখনও দলীয়করণের অভিযোগ ছিল না। বরং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া প্রশাসনকে একটি নিরপেক্ষ কাঠামোতে রূপ দিয়েছেন।”

বর্তমান সরকারের আমলে প্রশাসনের দলীয়করণ চরম আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, “গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন এলাকায় আমরা অস্থিরতা লক্ষ্য করছি। পাহাড়ি অঞ্চলেও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এসব কিছুই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এর পেছনে একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত কাজ করছে। আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এসব চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে।”

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।