রাজনীতি

১৯৭১ সালকে ভুলে যাওয়ার অবকাশ নেই, ওটাই আমাদের জন্মের ঠিকানা: মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম

১৯৭১ সালকে ভুলে যাওয়ার অবকাশ নেই, ওটাই আমাদের জন্মের ঠিকানা: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই, কারণ এটি আমাদের “জন্মের ঠিকানা”। তিনি বলেন, “এই দেশ, এই ভূখণ্ড সেদিন স্বাধীনতার মর্যাদা পেয়েছে। ১৯৭১ আমাদের অস্তিত্ব, পরিচিতি এবং স্বাতন্ত্রের প্রতীক। আমাদের জন্য এটি সবসময় মনে রাখা অপরিহার্য।”

শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “একটি শক্তি ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে নেমে আনতে চায় এবং শুধু ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনকে বড় করে দেখাতে চায়। আমাদের দেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু কেউ এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে- আমরা তা মানতে রাজি নই।”

তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, “৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। বিএনপির প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ অনেক নেতার নামে শত শত মামলা করা হয়েছে। আমাদের ইলিয়াস ভাইসহ ১ হাজার ৭শ মানুষকে গুম করা হয়েছে, ২ হাজার মানুষকে হত্যা করে একটি দানবীয় রাষ্ট্র গঠন করা হয়েছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালে যারা হত্যা চালিয়েছিল, তারা আজও দেশের মানুষকে বিভক্ত করতে চায়। আমরা বিভাজন চাই না, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কিছু শক্তি বিভাজন আনতে চায়। ১৯৭১-এর ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাইলে তাদের লক্ষ্য একটাই- ইতিহাস অস্বীকার করা।”

তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গও স্মরণ করান। ১৯৭৫ সালের পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার করেন এবং বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। তার পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় ফরম গভর্নমেন্টে নির্বাচন করেন। কিন্তু বর্তমান সরকার ভোটাধিকার খর্ব করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। আমরা সর্বদা নির্বাচনের কথাই বলছি। পার্লামেন্টের সামনে আমরা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছি। গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, আমরা তা প্রতিহত করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণামতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট একসাথে হবে। আলাদাভাবে গণভোট হলে হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। আমরা নির্বাচন দ্রুত করতে চাই।”

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।