রাজনীতি
গণসংযোগে নিহত ১৫ মামলার আসামি সরওয়ার বিএনপির কেউ নন: আমীর খসরু
চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সরওয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। তবে নিহত সরওয়ার বিএনপির কর্মী নন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধের জেরেই সরওয়ারকে গুলি করা হয়। বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, গুলিবিদ্ধ সরওয়ার মারা গেছেন।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় প্রাইভেটকারে থাকা অবস্থায় সরওয়ারের ওপর হামলা হয়। তখন গুলিতে তার সঙ্গে থাকা দুইজন নিহত হন, তবে সরওয়ার প্রাণে বেঁচে যান।
সেই ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছিলেন, বিদেশে থাকা শিবির-সংশ্লিষ্ট বড় সাজ্জাদের অনুসারী ছোট সাজ্জাদের নির্দেশেই সরওয়ারকে টার্গেট করা হয়। একসময় সরওয়ারও বড় সাজ্জাদের দলের সদস্য ছিলেন, তবে ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি আলাদা হয়ে যান।
২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে সন্ত্রাসী হামলায় আটজন নিহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ছয়জন ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী। সে মামলায় সাজ্জাদ আলী (বড় সাজ্জাদ) সাজাপ্রাপ্ত হলেও পরে উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান এবং বিদেশে পালিয়ে যান। এখন তিনি বিদেশ থেকে ছোট সাজ্জাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারী এলাকায় অপরাধচক্র পরিচালনা করছেন বলে পুলিশের দাবি।
নিহত সরওয়ার সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন। তার বিয়েতে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের আগস্টে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর সরওয়ারকে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশেও দেখা গেছে।
বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের প্রার্থীর জনসংযোগে শত শত মানুষ অংশ নেন। সরওয়ার সেখানে উপস্থিত থাকলেও, এটি দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুরোনো বিরোধের জেরে সংঘটিত ঘটনা।”