রাজনীতি
দেশে বিএনপির হাত ধরে বারবার গণতন্ত্র এসেছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র এসেছে বিএনপির হাত ধরে, আর স্বাধীনতার নেতৃত্ব দাবিদার দল আওয়ামী লীগের হাতেই গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটেছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রবর্তন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছিল, তখনই স্বাধীনতার নেতৃত্ব দাবি করা আওয়ামী লীগের হাতে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলভাবে সামরিক শাসনের হাত ধরেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে- এসেছে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।”
তিনি আরও বলেন, “যারা একাত্তর বড় না চব্বিশ বড়-এমন তুলনা টানেন, তারা আসলে একাত্তরের শহীদদের অসম্মান করেন। আবার যারা একাত্তরকে সবকিছু মনে করে চব্বিশকে অস্বীকার করেন, তারাও শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা করেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাসসহ ৩৬ দিনে যারা গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ দিয়েছেন-তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে।”
বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সংবিধানের আলোকে দেশে বৈষম্য রোধে এই আইন প্রণয়নে কোনো বাধা নেই-এটি এখনই সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি দলিত, হরিজন, বেদে, চা শ্রমিক, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, হিজড়া ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সেবা ও নিরাপদ আবাসনের ক্ষেত্রে এই জনগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন হলে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।”
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “অধিকার আদায়ের প্রতিটি সংগ্রামে যেমন ত্যাগ ও আন্দোলনের প্রয়োজন হয়, এই বৈষম্যবিরোধী আইনের ক্ষেত্রেও তা সত্য। আগের সরকারের সময়ে সংসদে গেলেও শেষ পর্যন্ত আইনটি পাস হয়নি; এবার অগ্রগতি আশা করছি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কাফি রতন, এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।