রাজনীতি

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যা যা করবেন তারেক রহমান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৮ পিএম

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যা যা করবেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) জন্মভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও জনসমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাবর্তনের দিনে তারেক রহমানের কর্মসূচি জানিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অভর্থ্যনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি (তারেক রহমান) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন। যেতে চান তার পিতা শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করতে। যেতে চান ভাইয়ের কবরের পাশে। 

তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিগুলো তুলে ধরা হলো:

  • সংবর্ধনা অনুষ্ঠান: তাঁর আগমন উপলক্ষে ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় একটি বিশাল সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে যাওয়ার পথে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে পারেন।

  • ভোটার নিবন্ধন: জানা গেছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) তিনি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিবন্ধন করবেন।

  • নির্বাচনী প্রচারণা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে সফর করবেন।

  • জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত: আগামী ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর তিনি শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন।

  • স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: একই দিনে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

  • শহীদ পরিবার পরিদর্শন: তিনি সাভারে আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত এবং পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

        তারেক রহমান তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • রেইনবো নেশন: দল-মত নির্বিশেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন।

  • দুর্নীতি দমন: বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: দেশের আইনসভাকে আরও শক্তিশালী করতে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের প্রবর্তন।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে সরকার VVIP নিরাপত্তা (যেমন: SSF বা বিশেষ পুলিশ স্কোয়াড) প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিএনপির নিজস্ব সিকিউরিটি ফোর্সও তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান সবসময় জনদুর্ভোগ পরিহার করে চলেন এবং এমন কোনো কর্মসূচি সমর্থন করেন না যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। সেই লক্ষ্যেই তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, বাংলাদেশেও তার আগমন উপলক্ষে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। সে বিষয়ে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা তার নির্দেশনা পালনের আন্তরিক চেষ্টার পরও সেটা হয়তো শতভাগ প্রতিপালন করতে পারিনি।

কেন তারেক রহমান সরকারি ছুটির দিনে দেশে ফিরছেন— তার ব্যাখ্যায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনদুর্ভোগ পরিহার করতে তিনি তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সরকারি ছুটির দিন নির্ধারণ করেছেন। এমন একটি দিন নির্বাচন করেছেন যার পরপর দুইদিন সরকারি ছুটি, সব মিলিয়ে টানা তিনদিন ছুটি। তার নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে আমরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় কোনো স্থানে যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আমাদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করিনি।

গণঅভ্যর্থনার বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষের আবেগ ও তার অনুরোধের কথা মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত কম জনাকীর্ণ এলাকায় তার গণঅভ্যঅর্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এটি কোনো জনসভা বা গতানুগতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়। তারেক রহমান ছাড়া এই অনুষ্ঠানে কেউ বক্তব্য রাখবেন না। বিমান বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ারে যাবার পথে তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন।

নেতাকর্মী ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সকল প্রান্ত থেকে আসা জনস্রোত আটকানো সম্ভব না। যারা আসবেন তাদের প্রতি আহ্বান আপনারা ধৈর্য্য ও শৃঙ্খলা মেনে চলুন। যতটুকু অসুবিধা হবে তার জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অভর্থ্যনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও অভর্থ্যনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল, বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা প্রধান ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামস। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকা ও সড়ক পথে প্রায় এক হাজার মাইকের মাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচার করা হবে। সারা ঢাকা শহরে বিলবোর্ড ও তোরণও স্থাপন করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সময় শুধু যাত্রীরাই বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনতে রেলওয়ে থেকে ১০টি ট্রেন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বাস ও লঞ্চেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন।