রাজনীতি
আসিফ মাহমুদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে: নাছির উদ্দিন
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অবশ্যই এ বিষয়ে তদন্ত করবে এবং এই দুর্নীতির বিচার বাংলার মাটিতেই সম্পন্ন হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতিত্বসহ তিনটি দাবিতে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ইসি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তারা।
নাছির উদ্দিন আসিফ মাহমুদকে উদ্দেশ করে বলেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, সম্মুখসারিতে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে উপদেষ্টা হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যা দেশের মানুষের কাছে এখন ওপেন সিক্রেট।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেখানে কখনোই জামায়াত–শিবির–রাজাকারদের ক্ষমতায় আনার কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, অথচ জামায়াতের নামে কেন পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
আসন্ন দ্বাদশ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, দুটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী একজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা হয়ে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন- এটি দেশের মানুষের অজানা নয়।
বাংলাদেশে আসিফ মাহমুদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হচ্ছে-
১. পোস্টাল ব্যালট–সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।