রাজনীতি

নওগাঁয় রেললাইন করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

নওগাঁয় রেললাইন করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

কৃষিপণ্য পরিবহন খরচ কমাতে এবং মানুষ যাতে কম খরচে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য নওগাঁতে রেললাইনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। 

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, নওগাঁ ও জয়পুরহাটে ধানের পাশাপাশি অন্যান্য সবজি প্রচুর পরিমাসেন হয়। আমের উৎপন্ন হয়। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় এসব কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য হিমাগারের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কৃষিপণ্য ট্রাকে পরিবহন করলে খরচ বেশি হয়। এজন্য রেললাইনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে কৃষিপণ্য পরিবহণে খরচ অনেকটা কমে যাবে। কৃষকেরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে। মানুষও কম খরচে যাতায়াত করতে পারবে। 

বিএনপি সরকার গঠন করলে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকাটা যেহেতু কৃষিভিত্তিক অঞ্চল এই এলাকায় কৃষিভিত্তিক যেসব মিল ফ্যাক্টরি আছে, কৃষি লোন নিয়ে মিল ফ্যাক্টরি করবে তাদেরকে বিশেষভাবে সহায়তা করব। এতে করে তাদের মিল ফ্যাক্টরিহগুলোতে এ অঞ্চলের মানুষের, এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েগুলোর কর্মসংস্থান হবে। এভাবে আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। এর বাইরেও আমরা জেলায় ভোকেশনার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করতে চাই। যেখানে আমরা তরুণ এবং যুবক সমাজকে ট্রেনিং দেব তাদেরকে আমরা দক্ষ করে তুলব। দক্ষ করার মাধ্যমে তারা বিদেশে অথবা দেশে চাকরি করবে। অথবা দেশে কোনো ব্যবসা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। এর বাইরেও আইটিতে অনেক ছেলে-মেয়ে ভালো কাজ করে। এদেরকে আর কোন কোন জায়গায় কাজে লাগানো যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।

ভোটের সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে স্লোগান দিয়ে শক্তি দেখায়ে কোনো লাভ নেই। আমার সামনে স্লোগান দিয়ে কোনো লাভ আছে? ভোটের দিন এই শক্তি দেখাতে হবে।’

ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের আন্দোলনসহ বিগত জুলাই আন্দোলনে অনেক খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। এই মানুষগুলোর ত্যাগের একটা মূল্য থাকতে হবে। এক পক্ষ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েই এই পরিবারগুলো তাদের আপনজনদের হারিয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। একটা পালিয়ে গেছে। আরেকটা পক্ষ আছে। এই দুই পক্ষ এক সাথে ছিল। গত ১৬ বছর তলে তলে একসাথে ছিল। গত ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামে কোথাও ছিল না। ভেতরে ভেতরে তাদের সাথেই ছিল। এরা আবার ষড়যন্ত্র করছে। বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করছে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে যাতে করে ভোট এদিক-ওদিক করে ফেলতে না পারে। ভোটকেন্দ্রে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হবে। ভোর ৭টার সময় ভোটকেন্দ্র খুলবে। ভোট দেওয়া আরম্ভ করবেন। খেয়াল রাখবেন ভোটকেন্দ্রের ভেতর কি হচ্ছে সেটা। কিছু দিন আগে দেখেছেন ভোটকেন্দ্রে লাইন আছে কিন্তু লাইন আর লড়ে না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে যেন কিছু করতে না পারে। খেয়াল রাখবেন।’

দুপুরে রাজশাহীতে সমাবেশ শেষ করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁয় সমাবেশস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। তিনি রাজশাহীতে করে বাসে করে আসেন। তারেক রহমান সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন। নওগাঁ ও জয়পুরহাট অঞ্চলে এক সময় বহুবার এসেছেন সে কথা উল্লেখ করেন। প্রতি শীতে নওগাঁর ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে কম্বল বিতরণ করার উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্য শুরুর আগে তারেক রহমান নওগাঁর ছয়টি আসন ও জয়পুরহাটের দুটি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, সংসদ সদস্য প্রার্থীরা তাদের এলাকার বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরলেন। এত যে দাবি তাহলে গত ১৬ বছরে কি হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। শুধু ঢাকা শহরে কিছু ফ্লাই ওভার হয়েছে। কিছু মেগা প্রকল্প হয়েছে। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। আমরা চাই গ্রামের উন্নয়ন করতে। কৃষকের উন্নয়ন করতে। এত যে দাবি এই দাবি তখনই পূরণ হবে আমরা নির্বাচিত হতে পারলে সরকার গঠন করতে পারলে। আগামী ১২ তারিখে যে ভোট সেই ভোটে আমাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে হবে। আমরা দেখে-শুনে প্রার্থী নির্বাচন করেছি। ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা এদের সাথে থাকবেন। ১৩ তারিখ পর্যন্ত উনারা আপনাদের সঙ্গে থাকবেন। আপনাদের সকল দাবি-দাওয়া পূরণ করবে। 

কৃষকের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নওগাঁ জেলা ধানের ভান্ডার। ধানের জন্য সারা দেশে এ অঞ্চলের সুখ্যাতি আছে। এক সময় এ অঞ্চলে একটি মাত্র ফসল হতো। এখন তিনটি করে ফসল হয়। শহীদ জিয়ারউর রহমান বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করার পর থেকে তিনটি ফসল হওয়া শুরু করেছে। বেগম খালেদা জিয়া সেটাকে আরও বিস্তৃত করেন। কৃষক ভাইদের ভালো রাখতে পারলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ করেছিল। খালেদা জিয়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিল। আবার বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ধারাবাহিকভাবে সকল কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক কৃষককে অন্তত একটি করে ফসলের জন্য বীজ, সার দেওয়া হবে। ফসল নষ্ট হলে কৃষি বীমা থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। কৃষকেরা যেন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পান সেজন্য রেললাইনের ব্যবস্থা করা হবে। রেললাইন হলে কৃষিপণ্য কম খরচে যেমন পরিবহন করা যাবে, তেমনি মানুষ কম খরচে যাতায়াত করতে পারবে। আজকে দুজন সংসদ সদস্য প্রার্থী আক্কেলপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত রেললাইনের যে দাবি তুলে ধরলেন তা বাস্তবায়ন করা হবে।

চিকিৎসা সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘এ অঞ্চলসহ সারাদেশে চিকিৎসার খুব সমস্যা। এই সমস্যা দূর করতে প্রত্যেক মানুষের জন্য হেলথ কার্ড চালু করা হবে।’

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ইকরামুল বারী, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম, জয়পুরহাট-১ আসনে প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী প্রমুখ।