রাজনীতি

জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল: রেজাউল করিম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল: রেজাউল করিম
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতিতে তাদের দলকে কার্যত ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ৮ দলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে একসঙ্গে এগোনোর উদ্যোগ থাকলেও পরবর্তীতে একতরফা সিদ্ধান্তে জোটের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় জামায়াত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রেজাউল করিম বলেন, “আমরা একটি বড় প্রত্যাশা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম—ইসলামের পক্ষে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক উত্থান ঘটবে। কিন্তু আমাদের না জানিয়েই জামায়াত অন্য দলগুলোকে জোটে যুক্ত করে এবং নেতৃত্ব নিজেরা গ্রহণ করে। সেই নেতৃত্বের আড়ালে তারা আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। ফলে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে হতাশায় রূপ নেয়।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলামী আদর্শকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আন্তরিক নয় বলেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই জোট থেকে সরে আসে। “আমরা জাতির সামনে যে অঙ্গীকার করেছিলাম, সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামের একটি বার্তা জনগণের সামনে তুলে ধরেছি। ইনশাল্লাহ, ইসলামের পথে রাখা এই বাক্সই বিজয়ী হবে,”—বলেন তিনি।

তার ভাষ্যে, যারা মানবতার মুক্তি ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা চান, বিশেষ করে আলেম-ওলামারা, তারা হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। এ কারণেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, নির্বাচন ঘিরে তারা শঙ্কা ও হতাশা অনুভব করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে স্মরণীয় ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও আগ্রাসী আচরণ চলছে। বিশেষ করে ভোলায় নারী কর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, সময় থাকতে নির্বাচনকালীন পরিবেশ স্বাভাবিক না করা হলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।

এর আগে রংপুরের ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন।