রাজনীতি

জনগণের অনুদানে নির্বাচন করতে চায় এনসিপি: আসিফ মাহমুদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

জনগণের অনুদানে নির্বাচন করতে চায় এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জনগণের অনুদানের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কালো টাকা ও ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীদের অর্থনির্ভর রাজনীতির বিপরীতে অবস্থান নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, জনগণের ছোট ছোট অনুদানেই তারা নির্বাচন পরিচালনা করতে চান, যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কেবল জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ থাকেন।

তিনি জানান, প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে তহবিল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দাতারা চাইলে সরাসরি দলকে অনুদান দিতে পারবেন অথবা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে সহযোগিতা করতে পারবেন। এ তহবিলে কত অর্থ সংগ্রহ হলো এবং কোথায় ব্যয় করা হলো—সব তথ্য প্রতি বছর অডিটের মাধ্যমে যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে, যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দলের প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপির অধিকাংশ প্রার্থী জুলাই অভ্যুত্থানের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া তরুণ পেশাজীবী, যারা চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছেন, কিংবা সদ্য পড়াশোনা শেষ করা সাবেক শিক্ষার্থী। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই কোটিপতি বা অতিমাত্রায় সচ্ছল নন। তাই জনগণের সমর্থনই তাদের প্রধান শক্তি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নসহ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জনগণের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে চায় এনসিপি। দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির প্রার্থী বা দলকে যোগ্য মনে হলে অনুদানের মাধ্যমে নির্বাচনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করার জন্য। জনগণের অর্থ, সহযোগিতা ও সমর্থনে নির্বাচিত হলে সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বরই তুলে ধরা হবে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপিদের অর্থে নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে সেই অর্থদাতাদের স্বার্থ রক্ষার প্রবণতা তৈরি হয়। এনসিপি সে ধরনের রাজনীতির অংশ হতে চায় না।

তিনি বলেন, অন্য দল ও নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নিজেদের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড বজায় রাখাকে তারা জরুরি মনে করেন। এনসিপির কোনো প্রার্থীই হাজার কোটি বা শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি নন, কারও বিদেশি নাগরিকত্ব নেই কিংবা বিদেশে বাড়িঘর নেই—এটাই জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য।