রাজনীতি
ঢাকা-১২ আসনে হারলেও সাইফুল, জিতলেও সাইফুল
রাজধানীর মগবাজার ও তেজগাঁও এলাকার ছয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এই আসনটি শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ায় ধানের শীষ প্রতীকে কোনো প্রার্থী নেই। ফলে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্ন সমীকরণ।
বিএনপির সমর্থনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কোদাল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতা সাইফুল আলম নিরব, যার প্রতীক ফুটবল। এ ছাড়া জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন সাইফুল আলম খান মিলন। তিন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম একই হওয়ায় ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে রসিকতা চলছে—‘হারলেও সাইফুল, জিতলেও সাইফুল’।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮ জন, নারী ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থাকায় ভোটারের ঘনত্ব বেশি ফার্মগেট সংলগ্ন এলাকা ও মগবাজার অংশে, যেখানে মগবাজারেই ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
এ এলাকার ভোটারা বলেন, মাঠের লড়াই মূলত ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা অনেকের। কোদাল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল হক তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হওয়ায় তাঁকে চেনাতে বাড়তি প্রচেষ্টা চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে জোট শরিকদের নিজ নিজ প্রতীকে ভোট করায় অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলেও মত রয়েছে।
এ বিষয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোটারের বাসায় পৌঁছাতে পেরেছি। কোদাল যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতীক, সেটাও বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তবে একজন প্রার্থী নিজেকে বিএনপি ও তারেক রহমানের প্রার্থী বলে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তবুও এই আসনের মানুষ যেহেতু শিক্ষিত, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বহিষ্কৃত হলেও বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই নিরবের পক্ষে প্রচারে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি একজন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
সাইফুল আলম নিরব বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। মানুষ আমাকে চেনে। ধানের শীষ না থাকায় ভোটাররা ফুটবলকেই ধানের শীষ মনে করে ভোট দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন জানান, তিনি ১২ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা প্রধান অঙ্গীকার। পাশাপাশি গ্যাস-পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, খেলার মাঠের অভাব ও বিকল্প ট্রাকস্ট্যান্ডের সমস্যার সমাধানের কথাও বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে ঢাকা-১২ আসনে ভোটের হিসাব জটিল। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত—শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন কোনো না কোনো ‘সাইফুল’।