রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

সোমবার প্রকাশিত সাময়িকীটির সর্বশেষ সংখ্যায় এ সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়।

বিশ্লেষণে বলা হয়, খ্যাতনামা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, প্রায় ১৮ মাস আগে সংঘটিত একটি ‘বিপ্লব’-এর পর এটি হবে দেশের প্রথম নির্বাচন। ওই সময় ‘জেনারেশন জেড’ আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে, যাকে সাময়িকীটি ফ্যাসিবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তারেক রহমানকে নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের এই মূল্যায়ন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একই ধরনের পূর্বাভাসের ধারাবাহিকতায়।

সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও তুলে ধরে। এতে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ঢাকায় ফেরার সময় তার সমর্থকেরা রাস্তায় ভিড় করেন এবং তাদের উচ্ছ্বাসের কারণে বাসটি কয়েক মাইল ধীর গতিতে চলতে থাকে, যেন অপেক্ষমাণ মানুষ তাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন।

দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের উত্থান শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে দলটি এবারের নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাময়িকীটি।

প্রতিবেদনের মতে, এসব পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

নীতিগত প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে সাময়িকীটি জানায়, তারেক রহমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিস্তারিত না দিলেও নির্বাচিত হলে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন।

তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান মনে করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন, যাকে তিনি একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন।

দ্য ইকোনমিস্ট আরও জানায়, তারেক রহমান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বিক্ষোভে হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না।

প্রতিবেদনের বলা হয়, পর্যবেক্ষকদের মতে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর তারেক রহমানকে আগের তুলনায় ভিন্ন ও আরও পরিমিত মনে হচ্ছে।