রাজনীতি
নিজ এলাকাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে চান নবনির্বাচিত এমপি এবিএম মোশাররফ
পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণের জলরাশিময় দুই উপজেলা—রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া—মিলে গঠিত পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনী আসন। বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা এই জনপদ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনায় ভরপুর। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এই আসনের কলাপাড়াতেই অবস্থিত। তবে সমুদ্রসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এখানে নিত্যসঙ্গী। সব বৈরিতা মোকাবিলা করেই টিকে আছে উপকূলের মানুষ।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে সংসদে পৌঁছেছেন।
নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান (হাতপাখা প্রতীকে), পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৩৬ ভোট। এছাড়া ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ডা. জহিরউদ্দিন আহাম্মেদ (দেয়ালঘড়ি প্রতীকে) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫৮৫ ভোট।
বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “এ এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাণখোলা ভালোবাসাই আমাকে এই জয় এনে দিয়েছে। এই বিজয় আমি তাদেরকেই উৎসর্গ করছি। দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার ফলেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
উপকূলীয় এই জনপদের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা করবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা ও পায়রা বন্দর-এর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—মৎস্যজীবী, মৎস্যশ্রমিক ও রাখাইনসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। মৎস্যশ্রমিকদের জীবনবীমা চালুর বিষয়টিও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে যুক্তিনির্ভর ও মার্জিত বক্তব্যের জন্য পরিচিত এবিএম মোশাররফ হোসেন টেলিভিশন টকশোতেও নিয়মিত অংশ নেন। রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি তার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন, যার অনুপ্রেরণায় তিনি রাজনীতিতে অবিচল ছিলেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৪ আসনে দীর্ঘ সময় ধরে আধিপত্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর। প্রায় তিন দশক পর এই আসনে বিজয়ের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।