ধর্ম

শয়তানের কুমন্ত্রণা মনে আসলে কী করবেন? ইসলাম কী বলে


ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম

শয়তানের কুমন্ত্রণা মনে আসলে কী করবেন? ইসলাম কী বলে
প্রতীকী ছবি

মানুষের জীবনটা একটা পরীক্ষার ময়দান। এই জীবনে কখনো কখনো এমন সময় আসে, যখন হঠাৎ করে মনে হয় অদ্ভুত কিছু চিন্তা ভর করছে মনের ওপর। কখনো মনে হয়, অযথা ভয় লাগছে, কেউ যেন পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে ভুলের দিকে।

আবার কখনো এমন প্রশ্ন মনে খেলে যায়- আল্লাহ কি সত্যিই আছেন? এসব চিন্তা কেন আসে? এসব কী শুধু আমাদের মনের খেলা? ইসলামে এই বিষয়গুলোর খুব গভীর ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে। আল্লাহ বলেন, “আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের মিথ্যা আশা দেখাব, এমন সব কাজ করাব যাতে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করে ফেলে। আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবক বানাবে, তারা নিশ্চিতভাবেই স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (সুরা আন নিসা, আয়াত : ১১৯)

শয়তান কোনো সাধারন শক্তি নয়, সে চুপিসারে মানুষের অন্তরে ঢুকে পড়ে। ভয় দেখায়, বিভ্রান্ত করে এবং আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথটাকে ঘোলা করে দেয়। রাসুল (সা.)-এর হাদিসে এও এসেছে—শয়তান মানুষের মনে এমন এমন প্রশ্ন তোলে, যেমন “এটা কে সৃষ্টি করেছে?”, “সেটা কে সৃষ্টি করেছে?” মানুষ উত্তর দেয়—আল্লাহ। তারপর সে এমন এক জায়গায় প্রশ্ন নিয়ে পৌঁছায় “আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?”। এই প্রশ্ন যখন মনে আসে, তখন রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে এই চিন্তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, বিতর্ক বন্ধ করে দিতে এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, মানুষের উপর ফেরেশতা ও শয়তান উভয়ের প্রভাব রয়েছে। ফেরেশতা তাকে শান্তি দেয়, ভালো কাজে ডাকে, আর শয়তান তাকে মিথ্যার ভয় দেখায়, সত্যকে আড়াল করতে চায়। যে ব্যক্তি বুঝতে পারে, এই মুহূর্তে শয়তান তাকে প্রভাবিত করছে, তার উচিত সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং কৃতজ্ঞ চিত্তে ফেরেশতার পক্ষ অবলম্বন করা।

আসলে এই কুমন্ত্রণা বা "ওসওসা" আসা গুনাহ নয়, বরং এটা বুঝতে পারা এবং তা থেকে নিজেকে রক্ষা করা এটাই ঈমানের পরিপক্বতার পরিচয়। একজন ঈমানদার মানুষের জন্য এমন কুমন্ত্রণা এলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।

যেমনটি কোরআনের শেষ সুরা- সুরা নাস-এ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহর কাছে সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। সে কুমন্ত্রণাদাতা জিনদের মধ্য থেকেও হতে পারে, মানুষের মধ্য থেকেও।” (সুরা নাস: ১-৬)

এই দোয়াটি শুধু মুখে বলা নয়, অন্তর দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি আহ্বান। যখনই মনে হবে “আমি কি ভুল ভাবছি?” অথবা “শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যাচ্ছি না তো?”, তখনই আল্লাহর নাম স্মরণ করুন, নামাজে মনোযোগ দিন, কোরআন পড়ুন।

শয়তান আমাদের কাছ থেকে আল্লাহকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ চান আমরা যেন তাঁর দিকে ফিরে যাই। এই দ্বন্দ্বের মাঝে একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো, শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে সবসময় সজাগ থাকা। মনে রাখবেন, চিন্তার মধ্যে খারাপ কিছু এসে যাওয়া দোষের নয়, কিন্তু সেই চিন্তাকে কাজে রূপ দেওয়া, তাতেই শয়তানের জয় ঘটে।