ধর্ম
জেনে নিন দাজ্জালের আগমণ, ফিতনাসমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায়
কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ আলামত হলো 'মাসিহ আদ-দাজ্জাল'-এর আবির্ভাব। আদি পিতা আদম (আ.) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য দাজ্জালের চেয়ে বড় কোনো বিপদ আর নেই। সম্প্রতি দাজ্জালের আগমণ ও এর ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আলেমগণ বিভিন্ন হাদিসের আলোকে সতর্কবাণী দিয়েছেন।
দাজ্জালকে চেনার উপায়
হাদিস অনুযায়ী, দাজ্জাল হবে একজন যুবক পুরুষ, যার চুল হবে কোঁকড়া এবং শরীর লালচে। তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সে এক চোখ অন্ধ হবে (ডান চোখটি হবে আঙুরের মতো ফোলা)। সবচেয়ে বড় আলামত, তার কপালে স্পষ্ট অক্ষরে 'কাফের' (كافر) লেখা থাকবে, যা কেবল মুমিনরাই পড়তে পারবে।
দাজ্জালের ফিতনাসমূহ
দাজ্জাল নিজেকে ঈশ্বর দাবি করবে এবং তার পক্ষে এমন কিছু অলৌকিক শক্তি দেখাবে যা দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হবে। সে আকাশকে বৃষ্টি দিতে বলবে আর বৃষ্টি হবে, মৃত মানুষকে জীবিত করে দেখাবে এবং দ্রুততম সময়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিচরণ করবে। তবে সে মক্কা ও মদীনা শহরে প্রবেশ করতে পারবে না, কারণ সেখানে ফেরেশতারা পাহারায় থাকবেন।
ফিতনা থেকে বাঁচার ৪ উপায়
১. শুদ্ধ ঈমান: আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ অন্ধ নন এবং তাঁকে দুনিয়াতে দেখা সম্ভব নয়। ২. সূরা কাহাফ: সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা ও তিলাওয়াত করা। ৩. বিশেষ দোয়া: নামাজের শেষ তাশাহুদে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তির দোয়া পড়া। ৪. দূরত্ব বজায়: দাজ্জালের আগমণের কথা শুনলে তার নিকটবর্তী না হয়ে নিরাপদ স্থানে (যেমন মক্কা-মদীনা) আশ্রয় নেওয়া।
দাজ্জালের শেষ পরিণতি
দাজ্জালের দাপট ও ফিতনা চিরস্থায়ী হবে না। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, দাজ্জাল যখন বায়তুল মাকদিসের (জেরুজালেম) দিকে অগ্রসর হবে, তখন আকাশ থেকে দামেস্কের সাদা মিনারের ওপর হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন।
ঈসা (আ.) দাজ্জালকে তাড়া করবেন এবং বর্তমান ফিলিস্তিনের 'লুদ্দ' (Lod) নামক শহরের প্রবেশদ্বারে তাকে পাকড়াও করবেন। ঈসা (আ.)-কে দেখামাত্রই দাজ্জাল লবণের মতো গলতে শুরু করবে। তখন ঈসা (আ.) তাঁর বর্শা দিয়ে দাজ্জালকে আঘাত করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। এর মাধ্যমেই পৃথিবীতে দাজ্জালের ফিতনার অবসান ঘটবে।
উল্লেখ্য যে, ফিলিস্তিনের 'লুদ্দ' নামক স্থানে হযরত ঈসা (আ.)-এর হাতে দাজ্জাল নিহত হওয়ার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ ফিতনার অবসান ঘটবে।