সারাদেশ
তিন ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিনের উপকূলীয় জলসীমা থেকে আবারও ১৫ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সীতা পয়েন্ট এলাকায় মাছ ধরার সময় তিনটি ট্রলারসহ জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন জেটিঘাট ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিম। তিনি জানান, স্থানীয় তিনজন ট্রলার মালিক—মো. আফসার, আবু তাহের ও মো. আলমগীরের ট্রলারগুলোকে স্পিডবোটে এসে ধাওয়া করে আরাকান আর্মির সদস্যরা। তারা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ সময় আফসারের ভাই নুরুল ইসলামের আরেকটি ট্রলার পালিয়ে এসে স্থানীয়দের ঘটনা জানায়।
জেলেদের অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই আরাকান আর্মি সাগরে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছি।”
এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই (৫ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত) ২৩ দিনে ১০টি ট্রলার ও ৬৩ জন জেলে অপহৃত হয়। সর্বশেষ ঘটনাসহ গত ২৬ দিনে মোট ১৩টি ট্রলার ও ৭৮ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা।
দীর্ঘ মেয়াদে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মোট ২৮২ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে ১৮৯ জন জেলে এবং ২৭টি নৌযান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রচেষ্টায় ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে সর্বশেষ অপহৃতদের অবস্থান, মুক্তিপ্রক্রিয়া বা উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গত ২৮ আগস্ট বিজিবির রামু সেক্টর দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বর্তমানে প্রায় ৫১ জন বাংলাদেশি জেলে আরাকান আর্মির কাছে জিম্মি রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের আন-অফিশিয়াল যোগাযোগ চলছে এবং আমরা চাপ প্রয়োগ করছি, যেন তারা আর কাউকে ধরে না নেয়।”