সারাদেশ

অদক্ষতা ও ব্যয়ভার বহনে অক্ষমতায় বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেলস্টেশন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১২ এএম

অদক্ষতা ও ব্যয়ভার বহনে অক্ষমতায় বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেলস্টেশন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের কক্সবাজার রেলস্টেশন নির্মিত হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু এখনো স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। পরিচালনায় অদক্ষতা ও ব্যয়ভার বহনে অক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখন স্টেশনটির দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।

২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর উদ্বোধন হয় চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘পর্যটক’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামে দুটি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে স্টেশনের অধিকাংশ অবকাঠামো এখনো অচল। রেলওয়ের হিসাবে শুধু ইউটিলিটি খাতে মাসে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে, যা তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পাঁচতারা হোটেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে- এমন প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশ নিতে বলা হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান চাইলে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নিতে পারবে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা চাই দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার স্টেশন পরিচালনা করুক। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।”

ছয়তলা আধুনিক এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা। প্রতিটি তলায় রয়েছে দোকান, ফুড কোর্ট, হোটেল কক্ষ, অফিস ও মাল্টিপারপাস স্পেসসহ আধুনিক সুবিধা। কিন্তু এখনো কোনো তলা কার্যকর হয়নি। সরেজমিন দেখা গেছে, স্টেশনটি ফাঁকা, সিঁড়ি ও এস্কেলেটর বন্ধ, আলো-নিরাপত্তার অভাব এবং টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, নিচতলায় টিকিট কাউন্টার, লাগেজ রুম, এটিএম বুথ ও ডাকঘরের কথা থাকলেও কিছুই চালু হয়নি। ওপরের তলাগুলোর দোকান, ফুড কোর্ট ও লাউঞ্জও এখন অচল।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পে কাজ করেছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি), চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি), তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে শত কোটি টাকার এই স্থাপনা এখন অব্যবহৃত। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।”