সারাদেশ
‘খদরে’ খাসি না থাকায় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড়, প্রকাশ্যে ফর্দনামা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘খদরে’ খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই জাপানপ্রবাসী বর চলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর দুই পক্ষের সম্মতিতে তৈরি করা একটি ফর্দনামা প্রকাশ্যে এসেছে। এতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতির কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বরের পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তার চাচাতো ভাই মনির হোসেনের স্বাক্ষরও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ১৪ আগস্ট ছেলে ও মেয়েপক্ষের উপস্থিতিতে ওই ফর্দনামা তৈরি করা হয়। এতে কাবিনসহ বিয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সম্মতির কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর ফুল দিয়ে বরকে বরণ করা হয়। গেটসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়।
আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বরপক্ষের জন্য খাবার পরিবেশন করা হলে সেখানে খাসি না থাকায় আপত্তি জানান বর জুনায়েদ। খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান তিনি।
এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন জুনায়েদ। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে চলে যান তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জুনায়েদ দাবি করেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জুনায়েদের আরও অভিযোগ, কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনেপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জুনায়েদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনেপক্ষ। তাদের দাবি, গত ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই ফর্দনামায় বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন স্বাক্ষরও করেছেন। ফলে পরবর্তী সময়ে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, খদরে খাসির বিষয়টি আগে জানানো হলে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নিতেন। এ বিষয়ে তাকে আগে কিছুই জানানো হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত সবাই বরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর বরকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।