সারাদেশ
টাঙ্গাইলে দফায় দফায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুরোনো বিরোধের জেরে ফের দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাণ হারালেন কালাম তালুকদার (৬৫) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪-৫ জন। ঘটনার পর দুই গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি ও চরম আতঙ্ক।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এবং পার্শ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার গোলপেচা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাস দেড়েক আগের বিরোধের রেশ ধরেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
নিহত কালাম তালুকদার ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে। আহত অন্যান্যদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাস দেড় আগে জুগৎপুরা ও গোলপেচা দুই গ্রাম-বাসীর সংঘাতের জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের হঠাৎ করে উত্তেজনায় জড়িয়ে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গোলপেচা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এর পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আরও ৪-৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়িঘরেও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর দুই গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসলাম উদ্দিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত কালামের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
গত ২২ এপ্রিল বুধবার দোকানের বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জগৎপুরা ও গোলপেচা গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই দিন সকাল থেকে কয়েক দফা সংঘর্ষে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও রক্তপাতের ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন।