সারাদেশ
মদপানে ৭ জনের মৃত্যু: কবর থেকে লাশ উত্তোলনের দিনে জামিনে মুক্ত ২ আসামি
চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুবরণ করা সাতজনের মধ্যে চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর)। একই দিনে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর রাতে চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপান করেন বেশ কয়েকজন। পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে একে একে সাতজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই নিহতদের পরিবার বিষয়টি গোপন রেখে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করে। তবে পরে খবরটি জানাজানি হলে পুলিশ তদন্তে নামে।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, এই বিষাক্ত মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুজন মাদক কারবারি—চুয়াডাঙ্গার খেজুরা গ্রামের জুমাত আলী ও ঝিনাইদহের ফারুক ওরফে অ্যালকো ফারুক। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর যথাক্রমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর চুয়াডাঙ্গা আদালতের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার সকালে চারজনের লাশ উত্তোলন করা হয় ময়নাতদন্তের জন্য। লাশ উত্তোলন করা হয় চারটি ভিন্ন গ্রামের কবরস্থান থেকে। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ তোলা হয়।
তবে একই দিনে জামিনে মুক্ত হন মামলার প্রধান দুই আসামি। চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার ফখরুদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বিকেলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র ৫-৬ দিনের ব্যবধানে জামিনে মুক্তি পেয়ে গেলে এ ঘটনায় ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত হবে?
নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, “আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অপরাধী পার পেয়ে গেল। তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
পুলিশ জানিয়েছে, বিষাক্ত অ্যালকোহল কোথা থেকে এসেছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর পেছনে আর কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।