সারাদেশ

বর্জ্য আর বোঝা নয়, সঠিক ব্যবস্থাপনায় হতে পারে সম্ভাবনাময় বাণিজ্য: কেসিসি প্রশাসক


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

বর্জ্য আর বোঝা নয়, সঠিক ব্যবস্থাপনায় হতে পারে সম্ভাবনাময় বাণিজ্য: কেসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

বর্জ্যকে এখন আর শুধুমাত্র সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে এটিকে একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়ায় নির্মিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। তবে প্ল্যান্টটি পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতের হাতে দেওয়া হলে তারা তা কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার পেশাদারিত্ব জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও এসএনভি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কেসিসি প্রশাসক বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থাপনাও বিবেচনায় রাখা দরকার। কোনো কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে কীভাবে প্ল্যান্টটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে আরও সভা ও আলোচনা আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রথমে কয়েকটি ওয়ার্ডকে নিয়ে পাইলট কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। এই পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে কী ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রয়োজন, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া যাবে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাকে সফল করতে হলে একমুখীভাবে কাজ করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে পারস্পরিক সমন্বয় ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। বহুমুখী ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমেই নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, টেকসই ও জনবান্ধব করা সম্ভব।

কর্মশালায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন এসএনভির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল কুমার দাস।

কর্মশালায় নগরীর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। গত ১৮ জুলাই কেসিসি ও এসএনভির মধ্যে অনুষ্ঠিত কৌশলগত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পটি খুলনাসহ দেশের চারটি সিটি কর্পোরেশন ও আটটি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশনসহ সংশ্লিষ্ট নগরসেবার নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়ন করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।