সারাদেশ

আট মাস কারাভোগের পর নিজ দেশ ভারতে ফিরল ফাল্গুনী রায়


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

আট মাস কারাভোগের পর নিজ দেশ ভারতে ফিরল ফাল্গুনী রায়
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নিজের প্রথম স্বামী সন্তানের টানে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফাল্গুনী রায়। এরপর তার জীবনে নেমে আসে দুর্গতি। শেষ পর্যন্ত তাকে জেলও খাটতে হয়।

২০২৫ সালের জুন মাসে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগা থানার সিংড়ী টেঙরা কলোনীর বাসিন্দা ফাল্গুনী রায়, বৈধ পথে বাংলাদেশে আসেন। তার প্রথম স্বামী ও ছেলে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে তিনি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি এলাকায় যান। কিন্তু সেখানে তাকে মারধর করে পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ফাল্গুনীর প্রথম স্বামী।

কোনো উপায় না পেয়ে ফাল্গুনী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানা এলাকায় এসে নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। এরপর পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে ফেরার উপায় খুঁজছিলেন তিনি। বাধ্য হয়ে সীমান্তে চোরাপথে পা বাড়ান। এক পর্যায়ে সীমান্ত পার হওয়ার সময় বিজিবির হাতে আটক হন। পরে তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়।

দুটি মামলায় তার চার মাস পাঁচ দিনের কারাদণ্ড হয়। তবে কারাভোগের মেয়াদ শেষ হলেও দুই দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতায় তাকে মোট আট মাস ১০ দিন কারাগারে থাকতে হয়। পরে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে ভারতীয় দূতাবাস গত ডিসেম্বর মাসে তাকে ছাড়পত্র দেয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যভাগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন থাকায় তাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

সব আইনি জটিলতা শেষে দীর্ঘ আট মাস পর রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতের গেদে সীমান্ত বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় তার বর্তমান স্বামী ভারতীয় নাগরিক প্রসেনজিৎ উপস্থিত ছিলেন। দেশে ফিরে যেতে পারায় ফাল্গুনী ও তার স্বামী বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের প্রতি কৃতঙ্গতা প্রকাশ করেন।

fff.jpg

ফাল্গুনী রায়ের মতো আরও অনেকে দুই দেশের কারাগারে রয়েছে, তাদের মুক্তির জন্য উভয় দেশের সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তাকে হস্তান্তরের সময় বিজিবি ও বিএসএফ, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন, থানা পুলিশ, এনজিও এবং মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।