সারাদেশ

মনপুরার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে ১৫ হাজার পানিবন্দি বাসিন্দা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

মনপুরার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে ১৫ হাজার পানিবন্দি বাসিন্দা
ছবিঃ সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকায় ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপটি।

একই সঙ্গে টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপকূলজুড়ে অব্যাহত ছিল বৃষ্টিপাত।

ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (নদীবন্দর) নির্মল কুমার রায় জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনপুরার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। লঘুচাপ ও সতর্ক সংকেতের কারণে জেলার সব নৌযান চলাচল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাট ও রামনেওয়াজ-ঢাকা সার্ভিস ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা ও ঢাকাগামী অনেক যাত্রী ঘাটে এলেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের ফিরে যেতে হয়েছে।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে মনপুরার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি ওঠায় বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবারের চুলাও জ্বলেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মেঘনা নদীতে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভোরের জোয়ারে চর কলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চল দুই থেকে তিন ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান, সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া ও মাস্টারহাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় এলাকা।

হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকার বাসিন্দা মফিজ মেস্ত্রী বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তাদের এলাকা ডুবে আছে। জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন সহায়তা না মিললেও সমাজকর্মী আবদুর রহমান সোয়েব ও মেহেদী হাসানের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, ভবিষ্যতে মনপুরা উপকূলে জলাবদ্ধতা কমাতে খাল খননের একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।