সারাদেশ

টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে প্লাবিত ৩০ গ্রাম; পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ  


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে প্লাবিত ৩০ গ্রাম; পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ  
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৭ হাজার পরিবারের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ৬০ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। সেখানে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭ পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানান, ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ৩ হাজার ২৪৮ জন অবস্থান করছেন।

এদিকে বিলাইছড়ি উপজেলার কোংড়াছড়ি, তক্তানালা, এগুইজ্জেছড়ি, ফারুয়া বাজারসহ নিম্নাঞ্চলের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের দুপুর ও রাতে রান্না করা খাবার এবং সকালে পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভারী বর্ষণের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধস হওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকার সাপছড়িতে আকস্মিক পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৩৯২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে।