সারাদেশ

অটোরিকশা ছিনতাই দেখে ফেলায় ১০ বছরের শিশুকে হত্যা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

অটোরিকশা ছিনতাই দেখে ফেলায় ১০ বছরের শিশুকে হত্যা
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করায় রাজু আহম্মেদ (১০) নামে এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে তার মরদেহ পানিভরা ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পুলিশ শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত রাজু আহম্মেদ শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন একই গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন (২৫) এবং মির্জাপুর বাজার এলাকার আব্দুল করিম (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই ররোয়া গ্রাম থেকে একটি অটোরিকশা ছিনতাই করে মোস্তাকিম ও তার সহযোগীরা। ওই ছিনতাইয়ের ঘটনা শিশু রাজু দেখে ফেলায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরদিনই অভিযুক্তরা রাজুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী এলাকার একটি জলাবদ্ধ ধানক্ষেতে মরদেহ পুঁতে রাখে।

এদিকে রাজু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শেরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে এলাকায় সংঘটিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনাও তদন্তে নেয় পুলিশ। দুটি ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তাকিমকে আটক করা হয়। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা কেনার অভিযোগে আব্দুল করিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য দিলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাড়াশ উপজেলার গাবরগাড়ী এলাকার একটি পানিভরা ধানক্ষেতে অভিযান চালিয়ে রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত মোস্তাকিমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা গোপন রাখতেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, ছিনতাই চক্রে অন্য সদস্য রয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।