সারাদেশ

মায়ের হাতেই মৃত্যুর মুখে, মানুষের হাতেই ফিরে পেল জীবন


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

মায়ের হাতেই মৃত্যুর মুখে, মানুষের হাতেই ফিরে পেল জীবন
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

মায়ের হাতেই মৃত্যুর মুখে পড়েছিল ১৬ মাসের শিশু আঞ্জুমান আয়াত। তবে মানবিক মানুষের সাহস, পুলিশের দ্রুততা ও চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টায় মৃত্যুকে হার মানিয়ে নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছে নিষ্পাপ শিশুটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে নওগাঁর পত্নীতলা থানায় এসে এক নারী নীরব কণ্ঠে স্বীকার করেন, তিনি তার ১৬ মাসের কন্যা শিশু আঞ্জুমান আয়াতকে মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের গ্রেপ্তারও দাবি করেন তিনি। মায়ের মুখে এমন স্বীকারোক্তিতে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় থানার পরিবেশ।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শুরু হয় আত্রাই নদীতে এক রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান। নদীর প্রবল স্রোতের মাঝেই নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুটি।

ঠিক সেই সময় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ খমির শেখ (৬৫)। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি নদীতে নেমে ডুবন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। কোলে তুলে নিয়ে তীরে এনে দ্রুত প্রাথমিক শুশ্রুষা শুরু করলে শিশুটির নিঃশ্বাস ফিরে আসে।

পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারকারীর কাছ থেকে নিয়ে দ্রুত পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নিজে হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং উদ্ধারকারী মোঃ খমির শেখকে মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।

 

police-1-Dhaka Prokah News-15-01-2025.jpg
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মানসিক বিপর্যয়ের কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি স্ত্রী’র মানসিক চিকিৎসা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী ব্যক্তি ও দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করায় নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।