সারাদেশ
ফুটবল ফাইনালে অতিথি না করায় ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় অতিথি না করায় বেআইনিভাবে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করার অভিযোগে নাটোরের লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে নাটোর জেলা ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মারুফ আলী লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার মাইকিংয়ের পর কেশবপুর গ্রামের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি স্থগিত রয়েছে।
জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মারুফ আলীকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনের যৌথ নির্দেশে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মারুফ আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্রদল মেনে নেবে না। এরই মধ্যে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল নেতা ১৪৪ ধারা জারি করে মাইকিং করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছর ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিবছরই বেশ জমকালোভাবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও একই ধারাবাহিকতায় প্রায় ১৫ দিন আগে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এতে গ্রামের কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের দল অংশ নেয়।
শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। তবে মারুফ আলীর মাইকিংয়ের পর তা স্থগিত হয়ে যায়।
খেলা আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব জানান, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মারুফ আলী ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি এবং তাকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে আয়োজক কমিটি তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
আয়োজকদের ভাষ্য, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ওই দিন সকাল ১১টার দিকে মারুফ আলী মাইকিং করে জানান, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং সেখানে কেউ খেলতে পারবেন না। এরপর থেকেই ফাইনাল ম্যাচটি বন্ধ রয়েছে।